১০ আগস্ট পবিত্র হজ! : আগাম যে প্রস্তুতি নেবেন হাজি

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪-০৮-২০১৯ ০৯:৪৯:১২ am

‘কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া কিছুই নয়’, বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কারণ হজের সফরে মুমিন বান্দা দুনিয়ার সব লোভ-লালসা থেকে বিরত থেকে দু’টুকরো সাদা সফেদ কাপড়ে নিজেকে মুড়িয়ে শুধু আল্লাহর জন্য সুদূর মক্কার দীর্ঘ সফরে বেরিয়ে পড়ে।


হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করলো, হজের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করার সময়গুলোতে স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকলো এবং গোনাহের কাজ করলো না, সে যেন মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া নবজাতকের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসলো।’ (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)


১০ আগস্ট হজ

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সৌদি আরব হজ কর্তৃপক্ষ এ বছর হজের দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছে ১০ আগস্ট। হজ উপলক্ষ্যে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় অবস্থান করছে লাখো হাজি। হজের আগের দিন (৯ আগস্ট) পর্যন্ত হাজিরা পবিত্র নগরীতে জড়ো হবেন।


যারা হজ করবেন তাদের জন্য রয়েছে কিছু মানসিক ও ধর্মীয় প্রস্তুতি। যে প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রত্যেক হজ পালনকারীর জন্য একান্ত আবশ্যক। কেননা নিষ্পাপ হওয়ার সেরা সুযোগ এটি। যা কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না। আর তাহলো-


>> নিজেকে দুনিয়ার সব কাজ থেকে বিরত রাখা দৃঢ় মনোবল অর্জন করা।

>> পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনকে আল্লাহর ভয়ের মাধ্যমে জীবন-যাপনের উপদেশ দেয়া।

>> দুনিয়াবি যে কোনো লেন-দেন সম্পন্ন করা। যে সম্পাদন করা সম্ভব নয়, সে ব্যাপারে কয়েকজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে লিখে রাখা কিংবা অসিয়তনামা তৈরি করা।

>> হজের আগ থেকে বিগত জীবনের গোনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করা।

>> গোনাহের কাজ ছেড়ে দেয়া।

>> বিগত জীবনের গোনাহের জন্য অনুশোচনা করা ও লজ্জিত হওয়া।

>> জীবনের বাকি দিনগুলো গোনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

>> কারো ধনসম্পদ, জায়গা-জমি বা অন্য কোনো হক নিজের জিম্মায় থাকলে তা আদায় করা।

>> কারো সঙ্গে মনো-মালিন্য থাকলে ক্ষমা চেয়ে নেয়া।

>> হালাল উপায়ে অর্জিত সম্পদ দ্বারা হজ করা এবং হালাল উপার্জনের সংস্থান করা। প্রিয়নবি বলেছেন-

‘আল্লাহ তাআলা নিজে পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া কোনো কিছু কবুল করেন না।


আল্লাহ তাআলা হজের যাবতীয় জিনিসগুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন