ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার জয় এবং আমাদের প্রত্যাশা মোতাহার হোসেন

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১৫-০৮-২০১৯ ০৭:৫৯:৪৯ am

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্ন দ্রষ্টা এবং বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবনের স্বপ্ন ছিল একটি সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। একই সাথে জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি। সেই লক্ষ্য নিয়ে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। আর জাতির জনকই এদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তর করার স্বপ্ন বীজ বপন করেছিলেন। 


 ‘আমাদের প্রত্যাশা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আলোর যে মশাল জ্বালিয়ে রেখে গিয়েছিলেন ৬৭ বছর আগে, তার সুযোগ্য উত্তরসূরি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগ নিষ্ঠার সঙ্গে তা বহন করে চলেছেন। প্রত্যাশা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মের এই শুভক্ষণে তিনি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ,আমাদের দেশকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তাঁর উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ভাবনাকে ছড়িয়ে দেবেন বাংলার আনাচে কানাচে,মাঠে ঘাটে,পথে প্রান্তরে। এর সুফল পবে দেশবাসী।’ 


মূলত: বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপই হচ্ছে আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ। ‘‘ভিশন- ২০২১’’ এর অধীনে ঘোষিত সময়ের আগেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য তার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ও তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জাতির পিতা কর্তৃক চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ স্থাপনের মধ্যদিয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথনকশা রচিত হয়। 


তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি ও প্রাণ প্রিয় দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পনায় দেশ এগিয়ে চলছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে পথনকশা বাস্তবায়নের পথে। ডিজিটাল বাংলাদেশের  বর্তমান সময়ের স্বপ্ন দ্রষ্টা ও রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম দিন ছিল গতকাল ২৭ জুলাই। তাঁর  ৪৯তম জন্ম দিনে বিনম্র শ্রদ্ধা তাঁর প্রতি। 


অন্যদিকে এটা বলা বোধ হয় সঙ্গত যে,সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রসেনানীই হচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় আগামীর বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। সেই অর্থে সজীব ওয়াজেদ জয় হচ্ছেন, ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জনক’’। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম হওয়ায় বাংলাদেশের জয়ের সাথে মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নাম রাখেন জয়। তার পিতা ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন দেশের একজন প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী। জয়ের স্কুলজীবন কাটে ভারতে।


আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর ধারণা দেন এবং এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। মূলত বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শক্তিশালী করতে এবং ই-গভর্নেন্স ও প্রযুক্তি শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে কাজ শুরু করেন। উন্নয়ন খাত এবং গভর্নেন্সে বাংলাদেশের বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনেও তিনি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের উপর জোর দেন। তার লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে আইটি আউটসোর্সিংয়ে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়া। ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানী আয়ে টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস খাতকে অতিক্রম করে যাওয়ার জন্য আইটি খাতকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।


বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জয় ভারতের ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। আরও কিছু শেখার আগ্রহ থেকে পরবর্তীতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে আরও একটি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট’ থেকে জনপ্রশাসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৪ সালে যখন অরাজক পরিস্থিতে দেশ, তখন তিনি বাংলাদেশে আসেন। মূলত: তখন থেকেই তার নেতৃত্বের পথে হাঁটা শুরু। 


পরবর্তীতে ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে দেশে যখন অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থেকে ‘মাইনাস টু’ ফরমুলা বাস্তবায়নের অচেষ্টায় লিপ্ত ঠিক তখন তিনি এ বিষয়টি বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। একইসাথে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছেন তিনি। তার এ সকল উদ্যোগ সফল হয় এবং তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার মা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।


এরপর থেকে দলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন জয়। ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবেও নিযুক্ত করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা হওয়ায় দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বর্তমান এবং ভবিষ্যত্ বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পান তিনি। তাঁর চিন্তা ও স্বপ্ন প্রসূত বর্তমানে বিকাশে মুহুত্বে টাকা লেন-দেন,ই-কৃষি তথ্য ,ই-স্বাস্থ্য সেবা,ই-পাসপোর্ট,ই-টেন্ডারিং,ই-ডকুমেন্ট ,ই-গর্ভনেন্স,ই-ফাইলিং ,শিক্ষার্থীদের জন্য ই-ভর্তি কার্যক্রম প্রবর্তন প্রভৃতি নতুন নতুন সেবা জনগণের দৌরগড়ায় পৌঁছেছে। 


এই সেবা আদান প্রদানে যুক্ত রয়েছে দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ উদ্যোক্তা। এতে আর্থিক ভাবে মানুষ যেমনি সবদিক থেকে উপকৃত হচ্ছেন তেমনি  সময় কমছে বহুগুণে। পাশাপাশি উন্নতর প্রযুক্তির প্রয়োগ করে জঙ্গীবাদ,সন্ত্রাসবাদ,চাঁদাবাজি বন্ধে আইন-শৃংখলা বাহিনী আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বহুগুণে দক্ষতা ও সফলতার পরিচয় দিতে সমক্ষ হচ্ছেন। একই সাথে দেশে আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে এবং জনগণের জান মালের নিরাপত্তা বিধানে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে এই প্রযুক্তি। 


সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই উদ্ভাবনী ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রবর্তনের ফলে দেশের তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগাতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি নিজেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তাই তিনি তরুণদের বোঝাতে শুরু করলেন যে রাজনীতি কোনো একক ব্যক্তি কিংবা দলের জন্য নয়, রাজনীতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যই। কোনো শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনিই প্রথম তরুণদের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসেন এবং তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করেন। আর তরুণরাও প্রথমবারের মতো দেশের শীর্ষ কোনো ব্যক্তির সাথে এভাবে আলোচনার সুযোগ পান। 


তরুণদের সাথে তার প্রথম কোনো আলোচনা সভা হয় যখন তিনি ‘সুচিন্তা’ নামের একটি সংগঠন তৈরি করেন। পলিসি থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তরুণদের দেশ পরিচালনায় সম্পৃক্ত করতে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন যার মধ্যে আছে ‘লেটস টক’ এবং ‘পলিসি ক্যাফে’। ২০১৫ সালে তিনি ‘ইয়ং বাংলা’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেন।


সম্প্রতি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে একটি নতুন ওয়েবপেজ সংযোজন করা হয়েছে যার ওয়েব ঠিকানা হলো www.albd.org/sajeebwazed ওয়েবপেজে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম থেকে তার শিক্ষা, কর্মজীবন সবকিছুই স্থান পেয়েছে যা থেকে বাংলাদেশ কীভাবে তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রসর হচ্ছে, তারও বিস্তারিত জানা যাবে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীনতম দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় কার্যক্রম ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিচালনা করছে বহুদিন ধরে। এই ওয়েব ঠিকানা www.albd.org দলটি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় তাদের ওয়েবসাইটে তুলে ধরে থাকে।  


এছাড়া সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) সজীব ওয়াজেদের এই ওয়েবপেজটি তৈরিতে সহযোগীতার পাশাপাশি লেট’স টক ও পলিসি ক্যাফে’র মতো সফল প্রোগ্রামের আয়োজন করছে যার মাধ্যমে তারা তরুণ সমাজ এবং পলিসি মেকারদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের দৌহিত্র হওয়ার সুবাদে পরিবার থেকেই পেয়েছেন রাজনৈতিক শিক্ষা। 


এর ফলে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেরেছেন তিনি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন ২০২১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে শামিল হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তথ্যপ্রযুক্তি। 


সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিভিন্ন দূরদর্শী এবং সময়োপযোগী উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশ গত ১০ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আইটি ফ্রিল্যান্সিংয়ে তথা আউটসোসিংয়ে তৃতীয় স্থান দখল করতে সমর্থ হয়েছে। শুধু ২০১৫ সালেই এই খাত থেকে ৩০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। তার পর ধারবাহিক ভাবে এই খাতে গত কয়েক বছরে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে কয়েকগুন হারে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। 


এর মাধ্যমে প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে যার মধ্যে আছে মোবাইল ফোন গ্রাহক, ইন্টারনেট গ্রাহক, অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রাপ্তি, ফের জি’র প্রবর্তন, মোবাইল ব্যাংকিং এবং প্রযুক্তি খাত থেকে রপ্তানি আয়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলশ্র“তিতে ইতোমধ্যেই সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগ এসেছে বাংলাদেশে।


তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি হাই-টেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। হাজার হাজার তরুণ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। এই খাতে গবেষণার জন্য অনেককেই দেওয়া হচ্ছে বৃত্তি। বিভিন্ন সরকারি এবং জনসেবায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি ওয়েবপোর্টাল ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ যা বিশ্বের মধ্যে সর্ববৃহৎ ওয়েব পোটাল হিসেবে স্বীকৃত। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কয়েক’শ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। 


দেশের ৫ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে বিপ্লব ঘটানোর কারণে বাংলাদেশকে এখন মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে ধরা হচ্ছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং বিশ্বের অন্যমত প্রযুক্তিবিদ বিল গেটসও এর প্রশংসা করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়ের ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্ভাবনীর।


দেশে তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে মূলত: ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন ‘রূপকল্প ২০২১’ যার মূল উপজীব্য ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ। দেশরত্ন শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর স্বপ্নদ্রষ্টা তার মেধাবী পুত্র, আন্তর্জাতিকমহলে সমাদৃত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয়। তারুণ্যের মেধা ও শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর এক অনবদ্য ও প্রেরণাদায়ী কর্মসূচি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়। ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঘোষিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে এসেছে। 


১ জুলাই ২০১৫ বিশ্বব্যাংকের মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান পায় বাংলাদেশ। অর্থনীতিবিদগণ একে দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাফল্যের অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা হত উন্নয়নের টেস্ট কেস হিসেবে, আর আজ বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে। 


বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এসবই সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বগুণে। নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বশেষ বাজেট নিয়েও বিশ্ব মিডিয়ায় শেখ হাসিনা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।


ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একটু পেছেনের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার পর সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এর দীর্ঘ দিন পরে ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু হয়। 


বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের গৃহীত আইসিটি নীতিমালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শ ও নির্দেশে সারা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শ ও নির্দেশে বাস্তবায়নকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিণত হয়েছে। 


বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সম্মানজনক ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট’ পুরস্কার অর্জন করেন। ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, প্লান ট্রিফিও, গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং কানেক্টিকাটের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হেভেনের স্কুল অব বিজনেসস যৌথভাবে তাকে এ পুরস্কার প্রদান করে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম কোনো ব্যক্তি হিসেবে ২০০৭ সালে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম কর্তৃক ‘গ্লোবাল ইয়ং লিডার’ হিসেবে নির্বাচিত হন। 


আমাদের প্রত্যাশা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আলোর যে মশাল জ্বালিয়ে রেখে গিয়েছিলেন ৬৭ বছর আগে, তার সুযোগ্য উত্তরসূরি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগ নিষ্ঠার সঙ্গে তা বহন করে চলেছেন। প্রত্যাশা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মের এই শুভক্ষণে তিনি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ,আমাদের দেশকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তাঁর উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ভাবনাকে ছড়িয়ে দেবেন বাংলার আনাচে কানাচে,মাঠে ঘাটে,পথে প্রান্তরে। এর সুফল পবে দেশবাসী। জয়তু শেখ হাসিনা-জয়তু সজীব ওয়াজেদ জয়।

আপনার মতামত লিখুন