ওয়াসার পানি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত চান হাইকোর্ট

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ৩০-০৭-২০১৯ ১০:৫৩:০৬ am

রাজধানীর পুরান ঢাকার পাতলা খান লেন ও মিরপুর জোনের পানি সংশোধন করে বুয়েট ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।


এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন, ওই দুই জোনের পানি (ফিকেল কলিফর্ম ও ইকোলাই ব্যাকটেরিয়া) সংশোধন করা হয়েছে। পরে স্যাম্পল নিয়ে টেস্ট প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।


ঢাকা ওয়াসার পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য গঠিত চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রতিবেদনে ওই দুই এলাকার পানিতে কলিফর্ম ও ইকোলাইয়ের উপস্থিতির কথা রয়েছে। এরপরে দুই এলাকার পানির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত চেয়েছেন আদালত। কমিটিকে এই প্রতিবেদনের ওপর আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে।


আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে তাদের মতামত পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে আবারও ওয়াসার পানি পরীক্ষা করার আদেশ দেবেন বলে জানান আদালত। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৩ অক্টোবর।


ওয়াসার পানি নিয়ে রিটের শুনানিতে আজ (মঙ্গলবার) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই আদেশ দেন।


শুনানিতে আদালত বলেছেন, ‘ওয়াসার কাজ সুপেয় বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা, যা চলমান প্রক্রিয়া।’


আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ওয়াসার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাসুম। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ।


এর আগে প্রতিবেদন দাখিল করেন ওয়াসার আইনজীবী। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, ওই দুই জোনের পানি সংশোধন করা হয়েছে। পরে স্যাম্পল নিয়ে টেস্ট প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।


এরপর আদালত দুই প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত জানতে চেয়েছেন। তাদের মতামত পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে আবারো ওয়াসার পানি পরীক্ষা করার আদেশ দিবেন আদালত।


আদেশের পরে এ এম মাসুম বলেন, ওই দুই জোনের পানি সংশোধন করা হয়েছে। বুয়েট ও আইসিসিডিআর,বি পানি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে আর কোনো ব্যাকটেরিয়া নেই।


আমরা বলেছি যেখানে ক্লোরিন থাকবে সেখানে ব্যাকটেরিয়া থাকবে না। বৈজ্ঞানিকভাবে এক সঙ্গে দুইটা থাকার সুযোগ নেই। এ কারণে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের ‘রিমার্কস’ চেয়েছেন আদালত। তা পাওয়ার পর পরবর্তী ছুটির পরে এটি আবার আসবে।


মাসুম আরও বলেন, আমরা এখন পদ্মা ও মেঘনার দিকে যাচ্ছি। পদ্মা এবং মেঘনার পানি অনেক ফ্রেশ। তখন এ ধরনের অভিযোগ আর থাকবে না।


অন্যদিকে তানভীর আহমেদ বলেন, আজকে ওয়াসা যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেটাতে দেখা যায় যে, ওনারা স্বপ্রণোদিত হয়ে টেস্ট করেছে আইসিসিডিআর’বি এবং বুয়েটে। নিজেরা পানি দিয়ে। সে পানির স্যাম্পল ‘আনসিল্ড’। এ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে পানি সুপেয়।


বিষয়টা যেহেতু ‘হাইলি টেকনিক্যাল’ কোর্ট বলেছে , এ দুইটা রিপোর্ট যারা এক্সপার্ট ছিলো (আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি) তাদের কাছে যাবে। তারা এ রিপোর্টের আঙ্গিকে একটা কমেন্ট করবে, যে কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে আমরা সুপেয় পানি পাবো। তিন মাস পরে এ কমেন্ট পাওয়ার পরে কোর্ট যদি দেখেন আরেকটা টেস্ট করার দরকার, তাহলে টেস্ট করবে।


পানি পরীক্ষায় আদালতের নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের কমিটির প্রতিবেদন গত ৭ জুলাই আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেই প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার ১০টি বিতরণ জোনের ৩৪টি নমুনার মধ্যে আটটি পানির নমুনায় মলের অস্তিত্ব ও ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।


এর আগে ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর ‘অনিরাপদ পানি পান করছে সাড়ে সাত কোটি মানুষ’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ওই বছরের ১৪ অক্টোবর রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ। এর পর ওই বছরের ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারির নির্দেশ দেন এবং ওয়াসার পানির মান পরীক্ষায় চার সদস্যের কমিটি গঠন করতে বলেন। এরপর গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন