জামাই-শ্বশুর চক্রে রাজধানীতে সিএনজি ছিনতাই

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১৭-০৬-২০১৯ ১০:১০:০১ am

কখনো যাত্রীবেশে কখনোবা ডাবের পানির মাধ্যমে চালককে নেশাজাতীয় খাবার খাইয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করে আসছিল একটি চক্র। ছিনতাইয়ের পর সিএনজি মালিকের কাছ থেকে ৫০ থেকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে তা আবার ফেরত দিত। এ অভিনব চক্রটির নেতৃত্ব দিতেন জামাই-শ্বশুর।


রোববার (১৬ জুন) রাতে রাজধানীর দারুস সালাম, ডেমরা এবং দক্ষিণখান এলাকায় পৃথক অভিযানে চক্রের মূলহোতাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।


গ্রেফতাররা হলেন- হারুন অর রশিদ (২৮), রুহুল আমিন (৩৬), জামাল হোসেন (৬০), সোহেল খাঁ (৪০), ওয়ালী উল্লাহ ওরফে জয় (জামাই) (২১), রশিদ খান (৪৫)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।


সোমবার (১৭ জুন) দুপুরে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের প্রতিটি সদস্য বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ হয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সুকৌশলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করে মালিকের কাছ থেকে প্রতি সিএনজি বাবদ দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করতো।


সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কৌশল

সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে ছিনতাই কার্যক্রম পরিচালনা করে। চক্রের সদস্যরা যাত্রীসেজে সিএনজি ভাড়া করে নির্জন স্থানে নিয়ে ড্রাইভারকে মারধর করে রাস্তার পাশে ফেলে দিত।


অপর একটি চক্র রাস্তার পাশে থাকা দোকান থেকে চা-শরবতের মধ্যে নেশাজাতীয় উপাদান মিশিয়ে সিএনজি চালকদের সুকৌশলে পান করাতো এবং অপর সদস্যরা যাত্রীবেসে সিএনজি ভাড়া করতেন। পথিমধ্যে সিএনজি চালক অজ্ঞান হলে যাত্রীবেসে সিএনজিতে থাকা চক্রটি চালকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সিএনজি নিয়ে চলে যেতেন।


পরবর্তীতে আরও একটি দালালচক্র উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য চালকের ব্যবহৃত মোবাইলফোন দিয়ে সিএনজির মূল মালিকের সাথে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।


দ্বিতীয় কৌশল

ঢাকায় কিছুসংখ্যক সিএনজিচালিত অটোরিকশারচালক মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে সিএনজি ছিনতাই চক্রের সাথে যোগাযোগ করে পূর্বপরিকল্পিত গ্যারেজে রেখে অসুস্থতার কথা বলে মূল মালিককে ফোনে জানায় যে, তার সাথে থাকা সিএনজি এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়ে গেছে। পরে দালাল চক্র মধ্যস্থতা করতে মূল মালিকের সাথে যোগাযোগ করে এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।


র‌্যাব ৪-এর সিও চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর বলেন, সিএনজি ছিনতাইয়ের পর সেগুলো টাকার বিনিময়ে ফেরত দিত। এ জন্য চক্রের অন্য সদস্যরা সিএনজি মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। একটি সিএনজি ছিনতাই করতে পারলে চক্রের সদস্যরা ভাগে ১০ হাজার করে টাকা পেত।


তিনি আরও বলেন, চক্রের মূলহোতা জামাই ওয়ালী উল্লাহ জয়। তিনি ছোট শহীদের (শ্বশুড়) হাত ধরে এই চক্রে জড়ান। সিএনজি ছিনতাইয়েরর অভিযোগে ছোট শহীদ জেলে থাকায় চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছিল জামাই ওয়ালী উল্লাহ জয়।


আপনার মতামত লিখুন