স্কুলছাত্রকে হত্যা, মহাসড়ক অবরোধ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ইসরাফিল হাওলাদার নয়ন (১৭) হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।


সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা।


এতে মহাসড়কের দুইপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি শেখ মো. আতিউর রহমান ও উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ জানান।


তবে বিক্ষুব্ধরা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। পরে ওসি শিশির কুমাল পাল ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।


নিহত নয়নের বাবা আব্দুস সোবাহান বলেন, ২৬ এপ্রিল নয়নকে ডেকে নিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে নয়নের মরদেহ গুম করতে বস্তায় ইট ভরে সুগন্ধা নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরদিন বাবুগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন সন্ধ্যা নদী থেকে নয়নের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


এ ঘটনার পরদিন সোবাহান হাওলাদার অজ্ঞাতদের আসামি করে বাবুগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। কয়েকদিন পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাবেক সেনাসদস্য মো. ইদ্রিসের ছেলে মো. মুমিন এবং আসিফ হাওলাদার নামে আরেক কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে অজ্ঞাত কারণে মুমিনকে ছেড়ে দেয়া হলেও আসিফকে ওই মামলায় সন্দেহজনক গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।


মামলার বাদী আব্দুস সোবাহান আরও বলেন, এক আসামির স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মুমিনের নাম জড়ানোর পর থেকেই আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মামলা তুলে নিতে আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন সাবেক সেনাসদস্য ইদ্রিস।


উজিরপুর থানা পুলিশের ওসি শিশির কুমার পাল বলেন, স্কুলছাত্র নয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বাবুগঞ্জ থানার আওতাধীন এলাকা থেকে। মামলাও হয়েছে বাবুগঞ্জ থানায়। সড়ক অবরোধ করায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বাবুগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। বাবুগঞ্জ থানার ওসি নয়ন হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীদের জানানো হয়। এরপর তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।